মলয় দে নদীয়া:- অভাবটা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন, নদিয়া জেলার শান্তিপুর ব্লকের হরিপুর মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা কাওসার আলী বিশ্বাস। পেশায় সোনা রুপার অলংকার নির্মাতা
অনেক ছোটবেলায় তাকে পরিবার ছেড়ে, দুবেলা দুটো ভাতের জোগাড়ে যেতে হয় ভিন রাজ্য হায়দ্রাবাদে। সেখানেই, কাজের প্রতি আগ্রহ, বিনয়ী স্বভাব এবং সততার জন্য সামান্য একজন কারিগর থেকে হয়ে ওঠেন সফল ব্যবসায়ী। এখন হায়দ্রাবাদে নিজস্ব কারখানায় কাজ করেন প্রায় কুড়িজন যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, তার শান্তিপুরে নিজস্ব গ্রাম প্রান্তিক পরিবার থেকে নিয়ে যাওয়া।
অনেক উচ্চতায় উঠেও ভোলেননি শিকড়ের টান, তিনি বিশ্বাস করেন উপরওয়ালার দয়ায় আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত। তাই নিয়মিত, সামাজিক দায়িত্ব পূরণে তার অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে তাকে।
বিশেষত করনা পরিস্থিতির মধ্যে দুমুঠো অন্যের জন্য হাহাকার, তাকে কাঁদিয়েছিলো। সেই সময় তার কেনা সাড়ে চার কাঠা জায়গার ওপর গড়ে তুলেছিলেন, ভবঘুরে ,মানসিক ভারসাম্যহীন এবং প্রান্তিক পরিবারদের নিয়মিত দুবেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা। এই মহৎ কাজে তাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে বেশ কিছু তার আত্মীয় পরিজন বন্ধু-বান্ধব এবং এলাকাবাসী। আগামীতে আরো বড় স্বপ্ন পূরণের জন্য এইরকমই সহৃদয় 15 জন কে নিয়ে গঠিত হয় লাভ বাইক নামে একটি সংগঠন। কাওসার বাবু তার ছেলে মেয়ে পড়াশোনা এবং স্ত্রীকে নিয়ে হায়দ্রাবাদে থাকলেও সমস্ত দেখভাল তারাই করেন।
তবে করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার কারণে অনেক সংগঠন সরকারি বিভিন্ন ব্যবস্থা শিথিল হয়ে আসে কিন্তু, এই গ্রামের মধ্যান্যকালীন ভোজের ব্যবস্থা বন্ধ করেননি তিনি। বরং তাদের সার্বিক প্রচেষ্টায়, চিকিৎসায় আবারো অভিনব উদ্যোগ।
শান্তিপুরের স্বনামধন্য ডাক্তার একসময় পিজি হাসপাতালে কর্মরত ড: বাসুদেব দত্তকে একদিন শুক্রবার বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ঔষধ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি।
শুভ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে ছুটে আসেন শান্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক লালটু ঘোষ। তিনি বলেন বিগত ২০২১ সালের ১৭ই মার্চ মধ্যাহ্ন ভোজের ব্যাবস্থার শুভ উদ্বোধনে, এসেছিলেন দু’বছর বাদে আবারো সেই 17 ই মার্চ বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থার শুভ উদ্বোধনে আসতে পেরে তিনি গর্বিত। এভাবেই সকলে এগিয়ে আসলে, সমাজের অনেক জ্বলন্ত সমস্যার সমাধান হয়, তিনি উদ্যোক্তা সকলকে শুভেচ্ছা জানান।
ড: বাসুদেব দত্ত বলেন, এর আগে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে তিনি এ ধরনের পরিষেবা দিয়েছেন।
তবে এবারে, চিকিৎসার উপযোগী সাজানো গোছানো চেম্বারের ব্যবস্থা করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন তিনি।
বাবা আজাদ আলী বিশ্বাস বলেন, অভাবের তাড়নায় একসময় ছেলেকে ভালো করে খেতে দিতে পারেননি, আজ সেই ছেলে, অন্যদের মুখে ভাত যোগাচ্ছে, এটা গর্বের বিষয়।
পঞ্চাশোর্ধ শারীরিক সমস্যা যুক্ত মজিদ শেখ, বলেন তার মতন অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন কাওসার, তার এই উদ্যোগে বেঁচে রয়েছে বহু মানসিক ভারসাম্যহীন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যুক্ত এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধা মানুষজন। এবারে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আরো , সুবিধা হলো।
কাওসার আলী বিশ্বাস বলেন, এখানে নাম বা পদবী গুরুত্বপূর্ণ নয়, সহায় সম্বলহীন এবং শারীরিক অসুস্থদের গুরুত্ব দেয়া হয়। গোটা গ্রাম জুড়ে সম্প্রতির মধ্য দিয়ে মানুষের পরিষেবা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। লাভ বাইক সামাজিক সংগঠনের।

