কয়লা বালি পাথর নয়,এবার ড্রেনও চুরি! নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েতের চন্দননগর গাবতলা গ্রামের ঘটনা

মলয় দে নদীয়া:- কয়লা চুরি, বালি চুরি, পাথর চুরি, বাড়ি চুরি, পায়খানা চুরি এবার নতুন সংযোজন ড্রেন চুরির অভিযোগ । ঘটনা নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েতের চন্দননগর গাবতলা গ্রামে । কিভাবে চুরি ? ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায় এক বছর আগে পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল ড্রেন । সেই ড্রেন জিও ট্যাগ করে এক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েত এমনই অভিযোগ । আরো অভিযোগ বোর্ড লাগানো হয়েছে ড্রেনের অথচ ড্রেনের কোন কাজই হয়নি । এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায় । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অশোক হালদার পূর্ত দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ কল্লোল ঘোষ সহ বিরোধী দলনেতা উজ্জ্বল ঘোষ । তারা গিয়ে দেখেন ঘটনা সত্যি সেখানে ড্রেনের কোন কাজই হয়নি । অথচ জলজল করছে ড্রেনের কাজ হয়েছে বোর্ড। । রাস্তার উপরে ঝামা ব্যাস পড়ে রয়েছে সামান্য কাজ হয়েছে । যদি ঝামা ব্যাসের কাজ হয়েও থাকে সেটা সম্পূর্ণ বেআইনি । ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এসে পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে বিডিওকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয় । বিডিও এই কথা শুনে হতবাক । তিনি বলেন এক খাতের টাকা অন্য খাতে কিভাবে খরচ ? যেটা সম্পূর্ণ আইন বিরুদ্ধ কাজ । এই কথা বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়তেই পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা পূর্ণেন্দু ঘোষ পঞ্চায়েতের কাজের সাফাই গাইতে আসরে নেমে পড়েছেন । তিনি বলেন গ্রামবাসীরা মার্চ পিটিশন করেছিল ওই স্থানে জল জমে থাকে সেই জন্য সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে পঞ্চায়েতে মিটিং ও রেজুলেশন করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি । পাশাপাশি তাকে প্রশ্ন করা হয় তাহলে কিভাবে এক খাতের টাকা অন্য খাতে খরচ ? তিনি বলেন যেহেতু জিও ট্যাগ টা অনেক আগেই হয়েছিল এটা কোনোভাবেই চেঞ্জ করা যাবে না তাই আমরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি । তবে টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ ঠিক নয় ।এই কথা শুনে পূর্ণেন্দু বাবুকে প্রশ্ন করা হয় আপনি তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূলের তাহলে কেন এই অভিযোগ জানানো হলো ? তার উত্তরের তিনি বলেন যেহেতু ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি লক্ষণ ঘোষ চৌধুরী অনুগামী তিনি । যা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিরুদ্ধে গোষ্ঠী বলে সেই আক্রোশবশত তিনি এই কাজ করেছেন । বিজেপির কনভেনার ও কৃষ্ণগঞ্জ পঞ্চায়েতের বিজেপির সদস্য তিনি বলেন গ্রামবাসীদের কথা ভেবেই মিটিং রেজুলেশন করে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে এই কাজ করা হয়েছে । তবে জিও ট্যাগ যে ড্রেনের করা হয়েছে তা তিনি স্বীকার করে নেন । যেহেতু বিজেপির পঞ্চায়েত সেই জন্য দূর্নাম করার জন্য এই অভিযোগ করা হয়েছে । পাশাপাশি তিনি বলেন তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠীর চিরদিনের দ্বন্দ্রের জন্য আক্রোশবশত তিনি এই কাজ করেছেন । পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অশোক হালদার বলেছেন কে কোন রাজনৈতিক দলের সেটা দেখার বিষয় নয় আসল ব্যাপার কাজটা বেআইনি । সরকারি চেয়ারে বসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য অভিযোগ জানানো হয়েছে ।আজ যদি সাধারণ মানুষের অভিযোগ আসার পর আমরা চুপ করে থাকি তার দায়ভার আমাদের ওপর পড়বে ।এটা অন্যায় কাজ তাই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি ও কৃষ্ণগঞ্জ বিডিও ,জেলা পরিষদের সভাধীপতী কৃষ্ণনগরের এস ডি ওর কাছে লিখিত জানিয়েছি ।তারা আইন মাফিক যা ব্যাবস্তা নেওয়ার নেবেন ।তিনি বলেন একজন কন্টাক্টটর কিভাবে বেআইনি কাজ করলেন সেটাও ভেবে দেখতে হবে । তবে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েত, বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের, পূর্ণেন্দু ঘোষ ,তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ,তিনার বুথে এই কাজ । তিনি আবার তৃণমূলের ব্লক সভাপতি লক্ষণ ঘোষ চৌধুরির অনুগামী ।আবার যিনি কন্ট্রাক্টর তিনি আবার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক সভাপতি লক্ষণ ঘোষ চৌধুরী ভাইপো । তবে কি ব্লক সভাপতির ভাইপো বলেই কি এই বেআইনি কাজ করার সাহস পেলেন । সময় বলবে কি হবে ? তবে কৃষ্ণগঞ্জ এর বিডিও কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন কোনভাবেই বেআইনি ভাবে কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়া যায় না। তদন্ত হবে , কৃষ্ণগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কাছে জবাবদিহি করা হয়েছে । জবাব আসুক তারপরে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে । আপাতত পঞ্চায়েত ভোটের আগে ড্রেন নিয়ে শোরগোল কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক ।