চিতাভস্ম দিয়ে হোলি খেলা হয় পবিত্র শহর বারাণসীতে, কিন্তু কেন প্রচলিত আছে প্রথা?

মৌমিতা দেবনাথ,
ভারতের পবিত্র শহর বারানসি যাকে মোক্ষের শহর বলা হয় কারণ হিন্দু মতে মানব জীবনের অন্তিম বিসর্জন নাকি হয় বারানসিতেই।আর এই বারানসিতেই প্রচলিত আছে মাসান হোলি প্রথা , কোনরকম আবির বা রং দিয়ে এই হোলি খেলা হয় না বরং চিতা ভষ্মের ছাই দিয়ে খেলা হয় এই হোলি। কি শুনেই গা ছমছম করছে তো ভাবছেন কেন এমন রীতি প্রচলিত আছে কাশিতে। কাশির মহান জলন্ত ঘাট বা মণিকর্ণিকা ঘাটে প্রচলিত আছে এই মাসান হোলি প্রথা। যেখানে চিতা ভস্মের ছাই দিয়ে হোলি খেলায় মেতে ওঠে সাধু সন্ন্যাসীরা। তবে এর পেছনে রয়েছে এক কারণ। হিন্দু মতে, প্রায় ৩৫০ বছর আগে কাশিতে এই প্রথার প্রচলন হয়। বিশ্বাস করা হয় ভগবান শিব, দেবী পার্বতীর সঙ্গে বিবাহ শেষে ফাল্গুনী একাদশীর দিন এই মনি কর্ণিকা ঘাটে আসেন, এবং সেখানে ভূত আত্মা ও অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে মৃতদেহের ছাই নিয়ে হোলি খেলায় মেতে ওঠেন। সাধু সন্ন্যাসীরা প্রথমে গাঁজা ভাং এর একটি বিশেষ ভোগ প্রদান করেন ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে। আর তারপর মনি কর্নিকা ঘাটে এসে বাদ্যযন্ত্রের সহযোগে মৃতদেহের ছাই ভষ্ম বাতাসে উড়িয়ে শুরু হয় তাদের উৎসব। কাশির এই শ্মশানে যারা নিজেদের প্রিয়জনকে বিদায় দিতে আসেন তারাও কিছুক্ষণের জন্য এই খেলায় অংশগ্রহণ করেন। মনে করা হয়, মোহ মায়ার ঊর্ধ্বে জীবনের প্রকৃত রং আসলে ধূসর বা ছাই। ইহ জীবন থেকে মুক্তির পরও কিভাবে মুক্তি মেলে, মূলত পুনর্জন্মের এই চক্র থেকেই মাসান হোলি প্রথা মনিকর্নিকা ঘাটে প্রচলিত আছে। আপাতদৃষ্টিতে যা দেখলে গা ছমছমে মনে হলেও আসলে তার পিছনে রয়েছে হিন্দু ধর্মের এক বিশেষ কাহিনী।