পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে মালঞ্চ বিদ্যালয় ভোকেশনাল কোর্স করে প্রতিষ্ঠিত বহু ছাত্র-ছাত্রী

মলয় দে নদীয়া:-
পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে টেলারিংয়ের মাধ্যমে পোশাক তৈরি করা শিখে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন অনেক মেয়েরাই। নদীয়ার শান্তিপুরের মালঞ্চ হাইস্কুলে পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বৃত্তিমূলক টেলারিং সেন্টার। শুধু মালঞ্চ হাই স্কুলের ছাত্রীরা নয়, শান্তিপুর ব্লকের এবং আশেপাশের অনেক স্কুলের ছাত্রীরা এখানে ভর্তি ফি ও রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে ভর্তি হয়ে মেয়েদের বিভিন্ন পোশাক কাটিং করে বিভিন্ন রকম পোশাক তৈরি করার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। বর্তমানে ওই সেন্টারে মোট ২২ জন ছাত্রী এই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।তবে শুধু ছাত্রীরাই নয়, ইচ্ছে থাকলে ছাত্ররাও এই সেন্টারে ভর্তি হয়ে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে পুরুষরাও পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।৬ মাসের কোর্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই স্বনির্ভর হয়ে নিজেরা ব্যবসা করছেন।এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন কলেজ ছাত্রী লক্ষ্মী বর্মন, অনিতা কুন্ডুরা।তারা জানিয়েছেন,’প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্যেই তারা মেয়েদের বিভিন্ন রকম পোশাক তৈরি করা শিখে ফেলেছেন। তারা বাড়িতে নিজেদের মতো পোশাক তৈরি করছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে আগামী দিনে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে তারা ব্যবসা করার দিকে আগ্রহী।’২০১০ সালের অক্টোবর মাস থেকে মালঞ্চ হাইস্কুলের বৃত্তিমূলক টেলারিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করছেন সাধনা ঘোষ।তিনি জানিয়েছেন,’বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা যাতে আগামী দিনের স্বনির্ভর হতে পারে, সেই লক্ষ্যেই তারা হাতে-কলামে বিভিন্ন রকম কাজ শিখছে। কাজ শিখে বাড়িতে তারা বিভিন্নরকম মেয়েদের পোশাক বা ছেলেদের পোশাক তৈরি করছে। অনেকে ইতিমধ্যেই ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বর্তমানে ২২ জন ছাত্রী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি সার্টিফিকেট তাদের দেওয়া হয়ে থাকে। সেই সার্টিফিকেট নিয়ে তারা বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করতে পারে। এখানে শুধু মেয়েরা নয়, ছেলেরাও ভর্তি হতে পারে।৬মাসের কোর্স শেষে পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। তবে শোনা যাচ্ছে, ৬ মাসের কোর্স আগামীদিনে এক বছরের হতে পারে।’
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবী করেছেন, নাইটি ,সায়া ব্লাউজ, চুড়িদার ,কুর্তি নানান পোশাক তৈরি করে অনেক মেয়েরাই এখন ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র পোশাক তৈরি নয়,বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ, কাপড় উল এবং অন্যান্য উপাদানের পুতুল তৈরি, সহ বিভিন্ন ধরনের কুটির শিল্পেরও ট্রেনিং দেওয়া হয় এই সেন্টারে।