পাঁচ বছর ধরে প্রতীক্ষায় থাকা প্রতারিত গৃহবধূ কোর্টের নির্দেশে শান্তিপুর থানার তৎপরতায় ফিরে পেলো , বাপের বাড়ির দেওয়া সমস্ত উপহার

মলয় দে নদীয়া :-
২০১৩ সালে নবদ্বীপ নিবাসী মিঠু দে দাসের মেয়ে পারমিতার সাথে সম্বন্ধ করেই বিবাহ হয় সূত্রাগর সুবীর দালালের ছেলে সুমনের সাথে। মিঠু দেবীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভাবী পরিবার দেখেই এমএ পাস মেয়েকে পরিবারের সম্মতিক্রমে বিবাহ করে সুমন। কিন্তু সে সময় রমরমা কাপড়ের ব্যবসার কথা বলা হলেও, বিয়ের পর থেকেই খাট ,ড্রেসিং টেবিল, আলমারি, বিভিন্ন ধরনের গহনা , একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে আদায় করতে থাকে সুমনের পরিবার। এমনকি নগদ ৪০০০০ টাকা লিখিত হিসেবে ধার নেয়, কাপড় উৎপাদনের মেশিন কিনবে বলে। কিন্তু শোনা ,গহনা সমস্ত কিছু বন্ধক দিয়ে নগদ টাকা জলাঞ্জলি দিয়ে আবারো চাপ , শ্বশুরবাড়ির প্রতি। দিনে দিনে গৃহবধূর উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে বিভিন্নজিনিসপত্র এবং টাকার চাহিদার মতই। বাধ্য হয়েই আজ থেকে পাঁচ বছর আগে, এক ছেলে এবং মেয়ে নিয়ে ওই গৃহবধূ দারস্থ হয়েছিলেন শান্তিপুর থানার। ঘটনাটি কোর্টে বিচারাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর ছেলে মেয়েকে নিয়ে নবদ্বীপে বাপের বাড়িতেই থাকে। বাবা অপরের দোকানে কাজ করে, তাই মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে দেওয়া জিনিসপত্র ফেরাদের আবেদন করেন সেই সময়। এরপর পত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শান্তিপুর থানার পুলিশ বেশ কয়েকবার সূত্রাগরে সুমনের বাড়িতে পৌঁছালেও, কখনো বাড়িতে না থাকা, কখনোবা অন্য কোন কারণে তা উদ্ধার হয়নি। তবে এবার, শান্তিপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর এবং মালখানার ইনচার্জ সইফ উদ্দিন আহমেদ এবং কনস্টেবল বিনয় কুমার তিওয়ারির তৎপরতায় আজ সমস্ত ব্যবহার্য জিনিস এবং ওই গৃহবধূর বাপের বাড়ি থেকে দেওয়া সমস্ত উপহার ফেরত পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল পরিবার। তারা জানালেন, অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা থাকে, আইন আদালত এসব করে কোন কাজ হয় না। তবে এই পরিবার থেকে, মিঠু দে দাস এবং তার মেয়ে পারমিতা, জানালেন বিলম্বে হলেও তাদের মতো প্রতারিত হওয়া, বহু পরিবারের সহায় আদালত এবং পুলিশ প্রশাসন। তবে ডিভোর্সের মামলা এখনো সম্পন্ন হয়নি, এরপর সুমন দালালের বিভিন্ন ধরনের অপরাধের উপযুক্ত সাজার প্রতীক্ষায় রয়েছেন তারা।