নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তৃতীয় জলঙ্গি দিবস পালন সেভ জলঙ্গীর, সর্বসাধারণের আন্দোলন হিসাবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিনভোর

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তৃতীয় জলঙ্গি দিবস পালন সেভ জলঙ্গীর, সর্বসাধারণের আন্দোলন হিসাবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিনভোর
মলয় দে নদীয়া :- মুর্শিদাবাদের চর মধুবনা পদ্মা থেকে উৎপত্তি হয়ে নবদ্বীপ স্বরুপগঞ্জের ভাগীরথীতে মিলিত হওয়া জলঙ্গী নদীর নদীপথ মোট ২৪৩ কিলোমিটার হলেও, উৎস থেকে করিমপুর দু’নম্বর ব্লকের চর মুক্তারপুর পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার সংস্কারের অভাবে প্রথমে বিলুপ্ত পরবর্তীতে দখলের পর্যায়ে চলে গেছে। বাকি অংশের শুধুমাত্র কৃষ্ণনগরেই দুটি রেল এবং দুটি সড়ক ব্রিজের পরেও পঞ্চম ব্রিজ নির্মিত হতে চলেছে নদীবক্ষেই।
এরপরে তো রয়েছে পাড়ের মাটি কাটা, বাধাল, ফেরিঘাট গুলির সংলগ্ন রাস্তা নির্মাণ, পৌরসভার নিকাশি জল নদীবক্ষে নির্গমন সহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম।
এসবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদে নেমেছে নগরের বেশ কয়েকটি সংগঠন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সেভ জলঙ্গি।
আজ তৃতীয় বর্ষে জলঙ্গী দিবস পালনে তাদের মূল স্লোগান , ” নদী আমাদের মা /মানচিত্র থেকে হারাতে দেব না। ”
আর এই প্রতিবাদে সমাজের সকল স্তর থেকে শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন সকল সচেতন সাধারণ মানুষকে একত্রিত করতে প্রতি বছরের মতো এ বছরেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তারা।
গত বারোই ফেব্রুয়ারি কৃষ্ণনগর হাই স্কুলে, বসে আঁকো, বিতর্ক, কুইজ,নদী কেন্দ্রিক কবিতা, প্রবন্ধ এবং গান, ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের শুরু করে সর্বসাধারণের এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিলো। বিভিন্নবিষয়ে স্থানাঅধিকারীদের, আজ সন্ধ্যায় বিসর্জন ঘাটে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানা গেছে। এবাদেও অনলাইনে, নদী কেন্দ্রিক স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র, সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতার সর্বোচ্চ প্রচারক ছাড়াও বেশ কিছু অনলাইন প্রতিযোগিতার পুরস্কারও আজ দেওয়ার কথা শোনা গেছে। জানা গেছে, সন্ধ্যের সময় সমগ্র নদীয়ার, চাপড়া, পলাশীপাড়া ,জাভা , করিমপুর কৃষ্ণনগর স্বরূপগঞ্জ সহ বিভিন্ন নদী-ঘাটে আজ নদী বরণ করা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে সকালে, দুই শতাধিক নদী বাঁচাও আন্দোলনকারী শেভ জলঙ্গির সদস্যরা, এক সাইকেল মিছিল শুরু করে বিসর্জন ঘাট থেকে, রাজপথের উপর দিয়ে নদী বাঁচানোর স্লোগানোর স্লোগান মুখরিত করে গোটা কৃষ্ণনগরবাসীকে। এরপর ওই মিছিল পোস্ট অফিসের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সন্ধ্যের নদী বরণ অনুষ্ঠানের আগে এবং পরে বিসর্জন ঘাটে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে বলেই জানিয়েছেন সংগঠনের পক্ষ থেকে। তবে শুধুই আবেগ নয়, জেলাশাসক এবং কৃষ্ণনগরের দুই সাব ডিভিশনে জলঙ্গি সংক্রান্ত নানান ডেপুটেশন দিয়ে থাকেন তারা।