মৌমিতা দেবনাথ,
বাংলা জুড়ে বিস্তৃত আছে। হিন্দুদের বহু আরাধ্য দেবতার পৌরাণিক কাহিনী। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কালী মায়ের এমন অনেক অজানা কথা যা শুনলে রীতিমত গা শিউরে ওঠে। বলি প্রথা বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জানেন কি এই বাংলারই এমন এক কালী মায়ের কথা যে মায়ের সামনে বলি হলে তিনি দেখতে পারেন না বেদি ছেড়ে উঠে এসে তিনি নাকি নৃত্য করতে থাকেন তাইতো বলির সময় মাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার কথা প্রচলিত আছে। প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মালদহের মানিকোড়া কালীপুজো। যে পুজোর সৃষ্টি দুর্ধর্ষ এক ডাকাত দলের হাতে। জানা যায় এক সময় নাকি মাকে শিকলে বেঁধে পুজো করা হতো এমনি লোককথা প্রচলিত আছে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার পুনর্ভবা নদীরপাড়ের গ্রাম মানিকোড়া গ্রামের মা কালীর নামে। এই গ্রামের মা কালী পরিচিত মানিকোরা কালী নামে। জানা যায় এককালে ডাকাতরা নাকি এই পুজো শুরু করেছিল মশাল জ্বালিয়ে পুজো করে বলি দিয়ে তারা আবার নদী পেরিয়ে চলে যেত। পরবর্তীকালে কালের নিয়মে স্থানীয় বাসিন্দারা এই পূজোর ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়।দীর্ঘদিন ধরে কালীপুজোয় বলির সময় এখানে দেবী প্রতিমাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার চল ছিল। কারণ, বলির সময় দেবী প্রতিমা নাকি কেঁপে উঠত। বর্তমানে এই পুজোর বহি দেওয়া হয় ছাগল তাই বহির সময় যাতে মায়ের নজরে সেই বহি না আসে তাই সাদা কাপড় দিয়ে মাকে ঢেকে দেওয়া হয়। এই পুজোর সময় দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ মায়ের পূজো করতে হাজির হয় এই মন্দিরে। কথিত আছে মানিকরা কালি নাকি অত্যন্ত জাগ্রত তাইতো আজও মানুষ তার মন বাঞ্ছা নিয়ে মায়ের দুয়ারে হাজির হয়।

