“ফৌজের আধুনিকীকরণের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা দ্রুত ছুঁয়ে ফেলাই এখন আমাদের লক্ষ্য।” ভারতীয় সেনাপ্রধানের মন্তব্যে কাঁপছে চিন!
চিন সীমান্তে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও তা অনিশ্চিত । বৃহস্পতিবার এমনই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ পাণ্ডে । এদিন তিনি বলেন, “সীমান্ত সমস্যার ৭টির মধ্যে ৫টি আমরা আলোচনার টেবিলে মিটিয়ে নিতে পেরেছি। বাকি সমস্যাগুলি মেটাতে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় সেনা।” প্রসঙ্গত, গত মাসেই অরুণাচলপ্রদেশের তাওয়াঙে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা LAC-তে আগ্রাসী মনোভাব দেখায় চিনা লালফৌজ । LAC পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা চালায় বেজিংয়ের (Beijing) People’s Liberation Army বা PLA। সীমান্তেই তাঁদের ঘিরে ধরে মারধরে করে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। মার খেয়ে ফের নিজেদের বাঙ্কারের দিকে চম্পট দেয় চিনা বাহিনী। সেই ঘটনার এক মাসের মাথায় সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের নিয়ন্ত্রণে চিন সীমান্ত পরিস্থিতি। বর্তমানে ভারতীয় সেনা আগের থেকে আরও বেশি শক্তিশালী। সীমান্তে যে কোনও হামলার উত্তর দিতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনা। সেনা দিবসে চিন প্রসঙ্গে কার্যত হুঁশিয়ারির সুর সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ পাণ্ডের গলায়। ৭৫তম সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, “ভারত-চিনের ৩,৪৮৮ কিমি লম্বা LAC-র পরিস্থিতি ভারতীয় সেনার নিয়ন্ত্রণে। আগের থেকে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী সেনা।”
২০২২-এর ডিসেম্বরে সেনার আপগ্রেডেশন ও উন্নতমানের অস্ত্রের কথা মাথায় রেখে তিন সেনার জন্য ৮৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাশ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রক। সেনার জন্য হাউইটজার কামান থেকে শুরু করে লাইট ওয়েট জোরাওয়ার ট্যাঙ্কের মতো একাধিক প্রকল্পকেও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। পাশাপাশি, চিন সীমান্তের কথা মাথায় রেখে সেনার প্রশিক্ষণেও বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে বলে জানান সেনাপ্রধান।
সেনা দিবস উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন জেনারেল পাণ্ডে সেখানে তিনি বলেন, “ফৌজের আধুনিকীকরণে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরকে সেনার এই পরিবর্তনের বছর হিসেবে আমরা চিহ্নিত করেছি। ফৌজের আধুনিকীকরণের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা দ্রুত ছুঁয়ে ফেলাই এখন আমাদের লক্ষ্য।”

