বন্দে ভারতের পর হাইড্রোজেন ট্রেন
ডেস্ক্রিপশন : ২৩-শেই ভারতের মাটিতে গড়াবে হাইড্রোজেন ট্রেনের চাকা , ভারতীয় রেল পরিষেবায় নয় চমক ।
নতুন বছরে গড়াবে হাইড্রোজেন ট্রেনের চাকা !
আরও উন্নত হতে চলেছে ভারতীয় রেল পরিষেবা ।
বন্দে ভারতের পর প্রযুক্তিগত আরও উন্নয়ন আসছে রেলে। ভারতীয় রেলকে একাধিকবার দেখা গেছে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে । এবারে ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাইড্রোজেন ট্রেন চলবে এবার। জার্মানিতে প্রায় ১৪টি হাইড্রোজেন ট্রেন রয়েছে। যার কারণে প্রতি বছর দেশটির প্রায় ১৬ লক্ষ লিটার ডিজেল বেঁচে যায় বলে জানা গিয়েছে। জার্মানির হাইড্রোজেন ট্রেনগুলির গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার। জার্মানিতে যে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনটি চলছে তার রং নীল। এটি একেবারেই পরিবেশবান্ধব।হাইড্রোজেন ট্রেনকে ২০২৩ সালে ভারতের নববর্ষের উপহার বলে জানিয়েছে রেল। এখন শুধুমাত্র জার্মানিতেই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন দেখা গিয়েছে। এবার সেই ট্রেন দেখা যাবে ভারতের মাটিতে। শুধুমাত্র ট্রেন তৈরি নয়, ট্র্যাক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নিয়েও ভারত কাজ করছে। যাতে সেমি হাইস্পিড ট্রেনগুলি সহজেই চলতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী হাইড্রোজেনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে হাইড্রোজেন চালিত যানবাহনের প্রচার করা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই এহেন যানবাহনের পরিষেবাও শুরু হচ্ছে। জানা গিয়েছে, চিনের হাইড্রোজেন চালিত আরবান ট্রেনটি যৌথভাবে তৈরি করেছে CRRC চাংচুন কোম্পানি এবং চেংদু রেল ট্রানজিট। এই ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হল প্রতি ঘন্টায় ১৬০ কিমি। আগেই রেল মন্ত্রকের তরফ থেকে কিছুটা আভাস পাওয়া গিয়েছিল , ২০২৩ সালে হাইড্রোজেন ট্রেনের চাকা গড়াবে। এই ট্রেন সম্পর্কে সাধারণের মধ্যে জানার বিপুল আগ্রহ তৈরি হয় । চলতি বছরে হরিয়ানার শোনপত থেকে জিন্দ ৮৯ কিলোমিটারের রুটে প্রথম এই ট্রেন চলবে। অন্যান্য ট্রেনের মতো বড় হবে না হাইড্রোজেন ট্রেন । বগির সংখ্যা খুব বেশি হলে ছয় থেকে আটটি হবে । ঘণ্টায় এই ট্রেন দৌড়বে সর্বাধিক ১৪০ কিলোমিটার বেগে। এক্ষেত্রে খরচ বাঁচবে আবার পরিবেশ দূষণ রোধ হবে। সমুদ্রের জল থেকে সহজেই তৈরি করা যাবে হাইড্রোজেন, যার যোগান অফুরন্ত। জানা যায় ,জার্মানির হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন তৈরি করেছে ফ্রান্সের টিজিভি মেকার সংস্থা অ্যালস্টম। এই ট্রেনের জ্বালানি পুনর্বার ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও ট্রেনটিতে অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চয় করে রাখার জন্য অতিক্ষমতা সম্পন্ন ইওন ব্যাটারি রয়েছে। যেখান থেকে কোন দূষিত গ্যাস নয়, শুধু মাত্র জল আর বাষ্প বের হল । হাইড্রোজেন ট্রেনের ট্যাঙ্ক যদি সম্পূর্ণ ভরতি থাকে, তাহলে তা এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রা করতে পারে।
2015 প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অন্তর্গত ভারতীয় সরকারের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য । দূষণ থেকে পরিত্রাণ পেতে সারা বিশ্ব যখন যানবাহনে প্রাকৃতিক জ্বালানির সফল প্রয়োগে মরিয়া, তখন দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতের এই হাইড্রোজেন ট্রেনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়ও বটে । এমনিতেই রোড ট্রান্সপোর্টেশনের তুলনায় রেলযাত্রা অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব । হাইড্রোজেন ট্রেনের আত্মপ্রকাশ রেলযাত্রাকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে ।

