ভালোবাসার টানে রাশিয়া থেকে বাংলায় পাড়ি, বাঙালি কনে সেজে বিয়ের পিড়িতে রুশ সুন্দরী

নিজস্ব প্রতিবেদন,মৌমিতা দেবনাথ,
ভালোবাসার টানে রাশিয়া থেকে বাংলায় পাড়ি, বাঙালি কনে সেজে বিয়ের পিড়িতে রুশ সুন্দরী।
কথায় বলে প্রেমে পড়বে মানুষ নাকি সাত সমুদ্র তেরো নদীও পার করতে পারে। আর এই প্রবাদ বাক্যই যেন বাস্তবেও সত্যি হয়ে উঠলো। প্রেমের টানেই শুধু রাশিয়া থেকে বাংলায় পাড়ি দিলেন এক যুবতী। আর বাংলায় বাড়ি দিয়েই সোজা একেবারে ছাদনা তলায়। পেশায় একজন অর্থনীতিবিদ ওই যুবতী। সাইবেরিয়ান রেলওয়েতে তিনি কর্মরত, নাম আলেকজান্দ্রা ইভানভা। বাঙালি যুবকের ভালোবাসাটা নেই সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে হাজির হলেন তিনি বাংলায়। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা সহস্রাংশু সিংহকে বিয়ে করতে সটান হাজির আলেকজান্দ্রা মুর্শিদাবাদের কান্দিতে। কিন্তু কিভাবে গড়ে উঠলো এই প্রেমের বন্ধন, নব দম্পতি জানালেন আসলে ২০১৬ সালে সহস্রাংশু অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে যান। সেখান থেকেই তিনি গিয়েছিলেন মস্কো। আর মস্কোতেই তার আলাপ হয় বিলেতি প্রেমিকার সাথে।সেই সময় আলেকজান্দ্রার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেম। সেই প্রেমের টানেই রুশ দেশের পাঠ চুকিয়ে মাকে নিয়ে বাংলায় ছুটে আসেন এই রুশ তরুণী। প্রেমের জন্য আলেকজান্দ্রা নিজের জীবনযাত্রায়ও এনেছেন আমুল পরিবর্তন। স্কার্ট পরে অভ্যস্ত আলেকজান্দ্রা এক্কেবারে বাঙালি কনে সেজে বেনারসি শাড়ি পরে বিয়ের পিঁড়িতে হাজীর।শুভ দৃষ্টি, মালাবদল, সিঁদুরদান সহ হিন্দু বাঙালি বিয়ের যাবতীয় রীতি মেনে প্রেমিককে বিয়ে করেন এই রুশ তরুণী। মেয়ের বিয়েতে মা মারিনা অ্যানোথিনাও দু’দিন ধরে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছেন হিন্দু ভারতীয় বিয়ে। বিয়ে দেখতে আমন্ত্রিত অতিথির সংখ‌্যাও কম ছিল না। নব আলেকজান্দ্রা জানিয়েছেন, তিনি খুব খুশি এই ভারতীয় সংস্কৃতি মেনে বাঙালি মতে বিয়ে করতে পেরে।’’
শুধু তাই নয় বিয়ের পিঁড়িতে বসে তিনি বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণও করলেন। নব দম্পতিকে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করবেন সকলে। আর তাদের যিনি বিয়ে দিয়েছেন মানে পুরোহিত মশাই তিনি জানালেন জীবনে নাকি তিনি এই প্রথমবার বিদেশি মেয়ের বিয়ে দিলেন। বিদেশি মেয়েকে বাঙালি বধুর সাজে দেখতে ভিড় জমিয়ে ছিল আমন্ত্রিতরা। এক নজির বিহীন বিয়ের সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদ।