নিজস্ব প্রতিবেদন, মৌমিতা দেবনাথ,
বুলেট বাইক পূজিত হয় দেবতা রূপে আর প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয় মদ,মন্দিরে নেই কোন বিগ্রহ আছে একটি ৩৫০cc বুলেট বাইক আর সেটিকেই দেবতা হিসেবে পুজো করে সবাই আর প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয় মদ। কি অবাক হচ্ছেন তো? ভাবছেন কোথায় এমন মন্দির আছে। এমন মন্দির আছে রাজস্থানের পালি থেকে ৫০ কিলোমিটার গেলেই এই মন্দিরের দেখা মিলবে। কিন্তু কেন এই মন্দিরে পুজো করা হয় বুলেট বাইককে, বুলেট বাবার মন্দির বা ওম পাণ্ডার মন্দির হিসাবে পরিচিত রাজস্থানের এই মন্দিরে একটি বহু মূল্য রয়েল এনফিল্ড বাইক পূজিত হয়ে আসছে বহু বছর যাবত। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস পথ দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাবে এই বুলেট বাবা তাই যাত্রার আগে এই মন্দিরে পুজো দিতে আসে বাইক আরোহীরা। এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পিছনে রয়েছে এক অলৌকিক গল্প, আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগে ১৯৯৮ সালে ওই স্থানে হোমস ইন রাঠোর নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় পথ দুর্ঘটনায়, ওই ব্যক্তির নাম ওম সিং রাঠোর এরপর পুলিশ মৃতদেহ এবং ওই বাইকটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় কিন্তু গ্রামবাসীদের দাবি রাতে হঠাৎই বাইকটি স্থান থেকে উধাও হয়ে যায়। বাইকটিকে এরপর খুঁজে পাওয়া যায় ওম সিং রাঠোর এর দুর্ঘটনাস্থলে। তবে এরকম ঘটনা যে একবারই ঘটেছে তা নয় বহুবার এই ঘটনা ঘটেছে। বাইকটিকে চেইন দিয়ে বেঁধে রাখলেও কয়েকটি উধাও হয়ে যায় আর তখন থেকেই মানুষের বিশ্বাস যে ওম সিং রাঠোর এর আত্মা ওই বাইকটির মধ্যে বাস করে আর তখন থেকেই পুজো করা হয় বুলেট বাইকটিকে। পর্যটকরা এবং গাড়ি চালকরা তাই এ পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুবার করে হর্ন বাজিয়ে যায় এবং প্রসাদ হিসেবে মদ দেওয়া হয়। কারণ মদের কারণেই যাবতীয় দুর্ঘটনা রাস্তায় ঘটে থাকে। ভক্তি ভরে মানুষ এখানে পুজো করে পথ দুর্ঘটনা এড়াতে।

