৩ ফুট উচ্চতার শরীর, প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে হুইল চেয়ারেই আজ ‘কলেজ প্রফেসর’ শান্তিপুরের তিয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদন মৌমিতা দেবনাথ:

৩ ফুট উচ্চতার শরীর, প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে হুইল চেয়ারেই আজ ‘কলেজ প্রফেসর’ শান্তিপুরের তিয়াসা,মনের জোর এবং ইচ্ছে শক্তি কথাই বলে এই দুটো জিনিস থাকে জয় করা যায় পৃথিবীর সমস্ত অসাধ্য সাধন। আর এই কথাটি আরো একবার যেন সত্যি হয়ে উঠল শান্তিপুরের তিয়াসার কাছে। শরীর জুড়েছে আছে প্রতিবন্ধকতা, উচ্চতা মাত্র তিন ফুট কিন্তু তাতে কি শুধুমাত্র ইচ্ছের জোরে আর অদম্য সাহসিকতা সর্বভারতীয় নেট পরীক্ষায় দুর্দান্ত সাফল্য পেয়ে প্রফেসর হতে চলেছেন এই নদীয়ার শান্তিপুরের পটেশ্বরী স্ট্রিটের বাসিন্দা তিয়াসা। ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট বার্নেট পরীক্ষায় ৯৯. ৩১ শতাংশ নম্বর পেয়ে সকলকে চমকে দিলেন তিনি। মাত্র তিন ফুট উচ্চতায় তিয়াসা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধকতা স্বীকার শরীর অবসন্ন ঠিকমতো বসতেও পারেন না আর হাত থাকলেও সেটা দিয়ে ঠিকমতো লিখে উঠতে পারেন না। হুইল চেয়ারে বসেই তার যাবতীয় কাজকর্ম করতে হয়। এক পাশে শুয়ে ছোট্ট ছোট্ট হাতে কোন রকমে দেখতে পারে কিন্তু এসব এ কোন তোয়াকা না করে দিন রাত এক করে চলত তার পড়াশুনা। আর তাতেই অনন্য সাধারণ সাফল্য তার। নিজের সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে জিজ্ঞাসা বলেন প্রথমে তিনি ছোটবেলায় শান্তিপুরের একটি কেজি স্কুলে তিনি ভর্তি হন, কিন্তু সেখানে ছিল না সঠিক পরিকাঠামো এরপর আমরা তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি ভর্তি হন। প্রাথমিক শেষ করার পর পঞ্চম শ্রেণীতে রাধারানী নারী শিক্ষা নিকেতনে তার পড়াশোনা শুরু হয়। শান্তিপুর কলেজ থেকে স্নাতক পাস করে কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন তিয়াসা। আর তারপরেই শুরু তার প্রফেসর হওয়ার লক্ষ্য। আর সেখানে নজির গড়লেন তিনি।
ইচ্ছাশক্তি এবং লক্ষ্য স্থির থাকলে যে সম্ভব সবকিছু তার অন্যতম উদাহরণ তিয়াসা।