নাজিম আক্তার, হরিশ্চন্দ্রপুর,২৩ সেপ্টেম্বর:
বেতন বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকে বিক্ষোভ দেখালেন পশ্চিমবঙ্গ মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের
হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের অন্তর্গত প্রাইমারি,
এসএসকে,এমএসকে,মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার মিড ডে মিলের কর্মীরা।এই বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন হরিশ্চন্দ্র পুর-১ নং ব্লক কমিটির সিটু সংগঠনের নেতাকর্মীরা
।উপস্থিত ছিলেন সিটু র জেলা কমিটির সভাপতি প্রণব দাস,সিটুর জেলা সদস্য আরজাউল হক ও মোহাম্মদ আসলাম এবং নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য কাউন্সিলের সদস্য মহম্মদ মকেতুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা।
এদিন বিক্ষোভকারী কর্মীরা তাদের ১৩ দফা দাবিদাওয়া নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর শহীদ মোড় থেকে একটি মিছিল বের করেন।এরপর ব্লক চত্বরে পৌঁছে ঘন্টাখানেক বিক্ষোভ দেখানোর পর বিডিও অনির্বাণ বসুর হাতে ডেপুটেশন তুলে দেন।
মিড ডে মিল রন্ধন কর্মীরা জানান,প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে তারা ১২ মাস মিড ডে মিলের রান্নার কাজ করে থাকেন।কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বেতন দেওয়া হয় ১০ মাসের।দৈনিক তারা মাত্র ৩ টাকা করে পারিশ্রমিক পান।নামেমাত্র এই বেতনে পরিবার চালাতে হিমসিম খেতে হয় তাদের।পুজোয় বিভিন্ন সরকারি কর্মচারীরা বোনাস পেয়ে থাকেন।অথচ মিড ডে মিল কর্মচারীদের এক পয়সা দেওয়া হয় না।একসময় মিড ডে মিলের কর্মীরা সকালে রন্ধনের কাজ করতে গিয়ে দুপুরে খাবার পেত।সেই খাবারও বন্ধ।এমনকি বাজারও করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্কুল মাস্টারদেরকে ।
তাদের মূলত দাবিগুলো হলো,বেতন বৃদ্ধি সহ প্রতি মাসের বেতন নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হবে,গরম ও শীতকালের জন্য ২ ধরণের পোষাক বছরে ২ সেট দিতে হবে,মিড ডে মিল কর্মীদের সরকারি কর্মচারী হিসাবে গণ্য করতে হবে,মাসিক বেতন বাবদ টাকা কর্মীদের ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টে দিতে হবে,ন্যুনতম মাসিক ২১ হাজার টাকা দিতে হবে,বছরে ১০ মাস নয়,১২ মাসের বেতন দিতে হবে, অবসরকালীন ভাতা ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে,শারীরিক অসুস্থতা বা পারিবারিক কাজের জন্য বছরে ২৪ দিন সবেতন ছুটি দিতে হবে প্রভৃতি।
বিডিও অনির্বাণ বসু জানান,তাদের দাবিগুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

