খাদ্য আন্দোলনের শহীদ স্মরণ

খাদ্য আন্দোলনের শহীদ স্মরণ

মলয় দে নদীয়া :-
তিরিশ হাজার নরনারী দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে জমায়েত হলেন কলকাতায়। ধর্মতলায় পুলিশ মিছিল আটকাল। মানুষ রাস্তায় বসে পড়লেন। বিকেল যখন সন্ধেয় মিশছে, তখনই শুরু হল বেপরোয়া লাঠিচার্জ আর টিয়ার গ্যাস৷ সন্ধে রাতের দিকে গড়িয়ে গেল। মার থামল না। ভারতের ইতিহাসে এমন নৃশংস পুলিশি হামলা খুব কমই ঘটেছে। সরকারি মতে মারা গেলেন আশি জন, বেসরকারি মতে আরও অনেক বেশি। এর পরের চার-পাঁচ দিন কলকাতার দখল নিলেন সাধারণ মানুষ। অসংখ্যবার গুলি চলল, লোক মরল, কিন্তু রাজপথ ছাড়ল না ক্ষিপ্ত জনতা৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইট মেরে পুলিশকে তাড়িয়ে দিল ছাত্রছাত্রীরা। একদিনে তিরিশ জায়গায় গুলি চলল৷ ভাতের থালা সামনে নিয়ে বসে মানুষ মরল। ৭৫ বছরের চুনীলাল দত্ত, ১৪ বছরের সরোজ দাঁ মরল গুলিতে।
২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে খাদ্য আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে শহীদ স্তম্ভ নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হলো।
সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, ব্যাপ্তি ও সংঘর্ষের বিচারে ১৯৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিরাট।
বামপন্থী দল ও গণসংগঠনসমূহ ঠিক করলো, প্রতি বছর ৩১ শে আগস্ট খাদ্য আন্দোলনের শহীদ দিবস হিসাবে পালিত হবে।
পরে ঠিক হয়, শুধু খাদ্য আন্দোলনের শহীত নন,
সকল শহীদের স্মরনেই ৩১ শে আগস্ট শহীদ দিবস
হিসাবে পালিত হবে। এবং সে ভাবেই হয়ে আসছে।
প্রতিবছরই এই শহীত দিবসটি খাদ্যের দাবির লড়াইয়ের ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। এবারও তাই হয়েছে।
শুধু শহীদদের স্মরণ করা নয়, কঠিন-কঠোর লড়াইয়ের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করার শপথ নেবার দিন ৩১শে আগস্ট।
খাদ্য আন্দোলনে নদীয়ার ভূমিকা ও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীয়ার বিভিন্ন প্রান্তে গ্রাম গঞ্জ থেকে বিভিন্ন বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করেছিলেন।নদীয়ার কৃষ্ণনগরে পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছিলেন দেবনাথ স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আনন্দ হাইত। পরের দিন আবারও পুলিশের গুলিতে মারা গেলেন হরি বিশ্বাস, শক্তিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র অর্জুন ঘোষ। এরই মধ্যে নেদেরপাড়ার গলিতে দুই পুলিশকর্মী নরেন দাস ও সুদর্শন ঘোষকে পিটিয়ে মারলেন আন্দোলনকারীরা। সরকারি অফিসে আগুন। কার্ফু জারি হয়। শহর জুড়ে চরম অত্যচার নামিয়ে আনে পুলিশ।
তাই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মধ্যে নদিয়ায় প্রতিবছর আজকের দিনে শহীদ স্মরণে সমবেত হন বামপন্থীরা। আজ শান্তিপুর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে শহীদ স্মৃতিতে মাল্যদান করেন শান্তিপুর বামফ্রন্টের সদস্যরা।